শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

কিশোরগঞ্জের সাড়ে ৪ ঘণ্টার হাওয়ায় দিশেহারা চাষীরা

ডেস্ক রিপোর্ট:: মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার ‘লু’ হাওয়ায় শ্রম ঘামের কষ্টের স্বপ্নের ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে উঠেছেন হাওর জেলা কিশোরগঞ্জের বোরো চাষীরা। রোববার বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টির আগে এ জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ফসল বিনাশী  ‘লু’ হাওয়া প্রবাহিত হয়।

এ “লু” হাওয়ার কারণে জেলার  বৃহত্তর হাওরাঞ্চলের ২৫ হাজার হেক্টর উঠতি বোরো ফসলের  জমির ফুল আসা বোরো ধান গাছের পরাগ রেণুসহ শীষ শুকিয়ে চিটা হয়ে যায়।

জেলার ইটনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৃষক শাহজাহান মিয়া সোমবার সকালে পার্শ্ববর্তী জিওলের হাওরের জমিতে গিয়ে এ অবস্থা দেখতে পান। তিনি জানান তার চার একরের বোরো ফসলের জমির মধ্যে তিন একর জমির ফসলের ধানের গাছের শীষই এ গরম হাওয়ায় সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে। তিনি এ ঘটনা প্রথমে স্থানীয় কৃষি বিভাগকে জানান।

পরে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কিশোরগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামার) উপ-পরিচালকের নির্দেশে জেলার ১৩ উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের লোকজন সরেজমিন বোরো ফসলের মাঠ পরিদর্শনে যান।

কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল আলম জানান, সোমবার বিকাল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের বোরো ফসলের জমি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্তব্যরত লোকজন ২৫ হাজার হেক্টর উঠতি বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্তের এমন চিত্র খুঁজে পেয়েছেন। তবে সামগ্রিকভাবে প্রকৃত চিত্র পেতে হয়তো আরও সময় লাগতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

উপ-পরিচালক মো. সাইফুল আলম আরও জানান, রোববার বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টির শুরু হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘণ্টা সময় ধরে এ এলাকার ওপর দিয়ে প্রচণ্ড গরম লু হাওয়া বয়ে যায়। আর এ ঘটনায় তুলনামূলক বিলম্বিত সময়ে রোপণকৃত ব্রি ধান -২৮, ব্রি ধান-২৯ সহ স্থানীয় জাতের ফুল ধরা বোরো ধান ক্ষেত  ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে এ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন উপ-পরিচালক মো. সাইফুল আলম।

আওয়াজ সিলেট / যুগান্তর /

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020 ekattorerawaz24
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD